দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কিসমত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর চুল জোরপূর্বক কেটে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির যুক্তি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে একটি শ্রেণিকক্ষে ডেকে নেন। পরে পাশের বাজার থেকে একজন নাপিত এনে ওই শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়া হয়। এ সময় বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে প্রতিবাদ জানান।
একপর্যায়ে অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও হট্টগোলে রূপ নেয়।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফিন হোসেন অভিযোগ করে বলে, তাকে ও আরও কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে জোর করে চুল কেটে দেওয়া হয়েছে।
আরেক শিক্ষার্থী সাকিন হোসেনের ভাষ্য, পাশের বাজার থেকে নাপিত এনে তাদের চুল কেটে দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির যুক্তি বলেন, আগের দিন অভিভাবকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় এলোমেলো চুল রাখা শিক্ষার্থীদের চুল ছেঁটে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। একই সঙ্গে বিভিন্ন অসংগতিপূর্ণ লেখা থাকা মাস্ক ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে একজন অভিভাবকের কারণে পরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুজ্জামান হিরোক বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। সভাপতির উদ্দেশ্য ভালো ছিল বলে দাবি করলেও তিনি বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান বলেন, বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। আইনগতভাবে কোনো শিক্ষার্থীর চুল জোরপূর্বক কেটে দেওয়ার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জে আই